
মৃত্যু হচ্ছে মানব জীবনের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা । মৃত্যুকে কেউ এড়িয়ে যেতে পারে না।সিরিয়াল বিহীন এই মৃত্যু কখন কাকে গ্রাস করবে তা কেউ জানে না। জীবনের প্রবহমান খাতা যখন চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়,
তখন সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কিছু থাকেনা।আজকে আমরা জানবো দেশের সীমানা পেরিয়ে আমাদের পরিচিতদের ভারতে মৃত্যু হলে করনীয় কি।
ভারতে থেকে দেশে লাশ আনতে একটা লম্বা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।
মানসিক ভাবে ভেঙ্গে না পরে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করে দেশে নিয়ে আসা জরুরি ,
প্রথমে প্রমান করতে হবে মৃতদেহ টি আপনার আত্মীয়ের এবং যিনি মারা গেলেন তিনি ভারতে থাকাকালীন অবস্থায় কোন বে-আইনি কিছু করেননি ৷
এমনই কিছু প্রক্রিয়া জানতে হলে শেষ পর্যন্ত লেখাটি পরবেন।
Step-1 ➡DEATH CERTIFICATE
প্রথমেই হস্পিটাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট নিতে হবে এটি খুব সিম্পল প্রক্রিয়।
যে ডাক্তার এর আন্ডার এ ছিলেন সেই এক কাজটি করে দিবে।
হাসপাতালের এডমিনেস্ট্রেশন থেকে এইটা কালেক্ট করে প্রথমেই ১০ টা কপি করে নিবেন,
Step-2 ➡POLICE N.O.C
ডেথ সার্টিফিকেট অরজিনাল+ফটোকপি এবং প্যাশেন্ট +তার যে কোন একজন এটেন্ডেন্ট (যে বডিটা ক্যারি করে দেশে নিয়ে যাবে)
পাসপোর্ট অরজিনাল+ফটোকপি নিয়ে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে যান এবং সেখানে কথা বলে Entry করে N.O.C কালেক্ট করুন।
বলে রাখা ভালো, এতে কোন টাকা পয়সার দরকার নেই।
Step-3 ➡PASSPORT CANCELLATION+N.OC
উপরের ডকুমেন্টস + পাসপোর্ট ( অরজিনাল+ফটোকপি ) নিয়ে এবার চলে যাবেন নিকটস্থ হাই কমিশন এ ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে,
যদিও সন্ধ্যা ৬ টার পর কল করলে বলবে এখন আইসেন না বন্ধ) গিয়ে প্যাশন্ট এর মূল পাসপোর্ট টা ক্যান্সেল করে সিল মেরে সেখান থেকে আরো একটি N.O.C COLLECT করবেন ৷
Step-4 ➡FRRO(FOREIGN REGIONAL REGISTRATION OFFICE)
এবার উপরের সব ডকুমেন্টস নিয়ে চলে যাবেন FRRO তে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করলেই মোটামুটি কাজ শেষ।
বলে রাখা ভালো, FRRO সকাল ১০ টার আগে খুলে না সো এর আগে যাবেন না,
Step-5 ➡ EMBALMING CERTIFICATE
অনেক অরগানাইজেশান আছে যারা বডি PRESERVATION এর কাজ করে
এদের মধ্যে PEACE HEAVEN ইন্ডিয়ার সবচেয়ে পুরনো অর্গানাইজেশন গুলোর মধ্যে একটি যারা গত ৭০ বছর ধরে এই কাজ আসছে।
PEACE HEAVEN প্রতিষ্ঠানটি স্বল্প মূল্যে করে এরকম যেকোন একটি অর্গানাইজেশন এর সাথে কথা বলে লাশ PRESERVATION এর সব ফার্মালিটিস সম্পন্ন করতে পারেন।
মূলত উপরের চারটি ধাপের ডকুমেন্টস দেখিয়ে হবে শেষ করে EMBALMING CERTIFICATE COLLECT করবেন।
বংলাদেশে বডি নেয়ার জন্য এই ৫ টি ধাপের ডকুমেন্টস অবশ্যই থাকা লাগবে,
উপরের সবগুলো ডকুমেন্টস এর ৭ টি করে ফটোকপি করে ৭ টি আলাদা সেট করে রাখবেন।
আপনি যদি বাইরোড যান তাহলে এম্বুলেন্স এর সাথে কন্টাক্ট করে অবশ্যই বিকাল ৫টার আগে বর্ডার পৌছাবেন,
অন্যথায় ইমিগ্রেশন শেষ করে ৬ টার আগে বের হওয়া খুব টাফ হয়ে যাবে।
আর বাই এয়ার গেলে, যে এয়ার ওয়েজ এ যাবেন তার টিকেট কেটে টিকেটের একটা প্রিন্ট কপি+ উপরের সব ডকুমেন্টস নিয়ে এয়ারপোর্ট এর কার্গো ডিপার্টমেন্ট এ চলে যাবেন।
এবং সেই এয়ারলাইন্সের✈ কার্গো অফিসে যেয়ে কথা বলে বডি ডিস্প্যাচ করার ডকুমেন্টস কালেক্ট করে নিবেন৷
বাকি কখন কি করতে হবে ওড়াই করে দিবে ৷ আমরা মোটামুটি পুরো প্রসেস্টা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি,
তারপরও কারো কিছু জানার থাকলে FEEL FREE TO ASK করতে পারেন।
আমরা আবারও রিকোয়েস্ট করছি নিকটস্থ কেউ এরকম বিপদে পরলে অবশ্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবেন।
বি.দ্রঃ উপরের কোথাও কোন খরচ নেই জাস্ট বডি প্রিসারভেশন এর জন্য একটা চার্জ ধরা হয়,
পিস হ্যাভেন ৭২ ঘন্টা বডি প্রিসার্ভ+ কফিন+১ দিন মর্গে রাখার জন্য ১৬,২০০ রুপি নিয়ে থাকে ৷
আর কলকাতা থেকে বাংলাদেশে বডি নিতে কাস্টমস এ ৯০০০ রুপির মতো নিয়ে থাকে।
আর কোথাও কোন খরচ নেই বডি কার্গোতে আনতে কোন টাকা লাগে না, শুধুমাত্র এটেন্ডেন্ট এর এয়ার টিকেট লাগে৷
কাস্টস+ইমিগ্রেশন এ বডির জন্য কিছু টাকা লাগে বাট এয়ার ওয়েজ ও কোন টাকা লাগবে না।
Collected by গ্রুপ এক্সপার্ট —- Priya Sen



